ভাড়া কিন্তু ৩০ টাকা!


বাসা হইতে অফিস যাইবার উদ্দেশ্যে বাহির হইলাম। একখানা খালি রিকশা দেখিতে পাইয়া জিজ্ঞেস করিলাম,

: মামা যাইবা? বাংলামটর?

: উঠেন

: ভাড়া কত?

: যা ভাড়া তাই দিবেন, উঠেন

ইতোঃপূর্বে “যা ভাড়া তাই” নামক মাইনকা চিপায় আমি একাধিকবার পতিত হইয়াছিলাম।

যা ভাড়া আসলে তাই-ই। কিন্তু সমস্যা হইল, কার হিসাবে “যা ভাড়া তাই” – তা তো নির্ণয় হয় নাই।

যাইহোক, প্রভাতের এই প্রান্তিলগ্নে (১২ টায় অফিস শুরু) রিকশা ভাড়া লইয়া বচসা করিতে প্রবৃত্তি হইল না, উঠিয়া পড়িলাম।

কিছুদুর যাইয়া রিকশাওয়ালা মামা, আমার অতি পরিচিত, অতি ব্যবহৃত বড় এবং সোজা পথ ত্যাগ করিয়া ছোট-গলিতে প্রবেশ করিল (বোধহয় শর্টকাট রাস্তা হইবে)

কিন্তু ক্ষনিকের মধ্যেই তিনি বুঝিলেন এটা ভুল গলি, এবং অত:পর তিনি ctrl+z চাপিয়া সেই বড় এবং সোজা রাস্তাই ধরিলেন

আমি বলিলাম, মামা গলি দিয়া যাইয়েন না, বড় রাস্তা দিয়া … বক্তব্য শেষ হইলো  না, তিনি আর এক গলিতে ঢুকিলেন!

অর্থাৎ তিনি তার জ্ঞাতি ভাগিনার মূল্যবান বক্তব্যকে বেল (পাত্তা) দিলেন না

পরিশেষে অনেক উত্থান-পতনের পর আমার পশ্চাৎদেশ ব্যাথাতুর করত তিনি  বড় রাস্তায় উঠিলেন .. কিছুক্ষণ চলার পর মামা আমার পরিচিত মোড় অতিক্রম করিবার উপক্রম করিতেই আমি চেচাইয়া উঠিলাম, মামা!! বামে! বামে যান .. কিন্তু ততক্ষণে তিনি ওই মোড় অতিক্রম করিয়া সামনে আগাইয়া গেলেন (বুঝিবা শর্টকাট হইবে) এবং বলাই বাহুল্য তিনি কিছুদুর আগাইয়া আবার এক গলিতে ঢুকিলেন!

দ্বিতীয় বারের মত তিনি তার জ্ঞাতি ভাগিনাকে বেল দিলেন না (কি আর করা :(, মামা বলিয়া কথা)

কিয়ৎক্ষণ পরেই আমরা এক তি-রাস্তার চিপায় আসিলাম .. জ্ঞাতি মামা পিছন ফিরিয়া আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, “রাস্তা কোনডা”?

আমি আসমান হইতে পড়িলাম! আমি কি করিয়া বলিব রাস্তা কোনটা? এমন ভাব, যেন তিনি আমাকে আমার পরিচিত রাস্তা দিয়া আনিয়া এইখানে আসিয়া পৌছাইছেন।

অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি অলি গলি ভালা একটা চিনি না!

মাত্রই আসমান হইতে পড়িয়াছি, এখন কোথা হইতে  পড়িব খুজিয়া পাইলাম না।

: মোর জ্বালা, গলি চিনেন না তো কথায় কথায় গলির মধ্যে গাড়ি ঢুকায়ে দেন কেন?

প্রত্যুত্তরে তিনি আমার দিকে তাকাইয়া দাত কেলাইয়া হাসি দিলেন।

আমি অজানা বিপদ আমার সম্মুখে দেখিতে পাইলাম .. তার উপর, অনির্দিষ্ট ভাড়া ঠিক করিয়া এই রিকশায় উঠিয়াছি! সর্ব্বোনাশ ..

জ্ঞাতি মামা আর কিছু বলিবার পূর্বেই আমি তড়িৎ বলিয়া ফেলিলাম, ভাড়া কিন্তু ৩০ টাকা!

Advertisements

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই


কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে
তোমারে দেখিতে দেয় না ..
মোহ মেঘে তোমারে দেখিতে দেয় না
অন্ধ করে রাখে তোমারে দেখিতে দেয় না
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাই না

ক্ষণিক আলোকে আখির পলকে তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে হারাই হারাই সদা হয় ভয় .. হারাইয়া ফেলি চকিতে
আশ না মিটিতে হারাইয়া .. পলক না পড়িতে হারাইয়া ..
হৃদয় না জুড়াতে হারাইয়া ফেলি চকিতে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাই না

ওহে কি করিলে বল পাইব তোমারে রাখিব আখিতে আখিতে
ওহে এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ .. তোমারে হৃদয়ে রাখিতে ..
আমার সাধ্য কি বা তোমারে .. দয়া না করিলে কে পারে ..
তুমি আপনি না এলে কে পারে হৃদয়ে রাখিতে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাই না

ওহে আর কারও পানে চাহিব না আর .. করিব এ আজি প্রাণপন
ওহে তুমি যদি বল এখনি করিব .. বিষয় বাসনা বিসর্জন
দিব শ্রীচরণে বিষয় .. দিব অকাতরে বিষয় .. দিব তোমার লাগি বিষয় বাসনা বিসর্জন
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই চিরদিন কেন পাই না

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি


খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায় ।।
আমি ধরতে পারলে মন বেড়ি
দিতাম পাখির পা

আট কুঠরীর ওই দরজাটা
মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাটা
তার উপরে সদর কোঠা
আয়না মহল তায়

কপালের খেল নইলে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার
খাচা ভেঙ্গে পাখি আমার
কোনখানে পালায়

মন তুই রইলি খাচার আশে
খাঁচা যে তোর কাঁচা বাশে
কোনদিন খাচা পড়বে খশে
ফকির লালন কেঁদে কয়

ফকির লালন শাহ

বাড়ীর কাছে আরশি নগর


বাড়ীর কাছে আরশি নগর
সেথা পড়শি বসত করে
এক ঘর পড়শি বসত করে
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে ।।

বিরাম বেড়ে অগাধ পানি
নাই কিনারা নাই তরণী, পাড়ে
বানছা পরি দেখবো তারি
কেমনে সেথা যাইরে
আমি কেমনে সেথা যাইরে

কি বলব পড়শির কথা
হস্তপদস্কন্ধমাথা নাই রে
ক্ষনেক থাকে শুন্যের উপর
ক্ষনেক ভাসে নীরে

পড়শি যদি আমায় ছুতো
যমযাতনা সকল যেতো দূরে
সে আর লালন একখানে রয়
লক্ষযোজন ফাকরে

ফকির লালন শাহ

পতিতা


আগার তাহার বিভীষিকাভরা, – জীবন মরণময়!
সমাজের বুকে অভিশাপ সে যে, – সে যে ব্যাধি, – সে যে ক্ষয়;
প্রেমের পসরা ভেঙে ফেলে দিয়ে ছলনার কারাগার
রচিয়াছে সে যে, – দিনের আলোয় রুদ্ধ করেছে দ্বার!
সূর্যকিরণ চকিতে নিভায়ে সাজিয়াছে নিশাচর,
কালনাগিনীর ফণার মতন নাচে সে বুকের পর!
চক্ষে তাহার কালকূট ঝরে, – বিষপঙ্কিল শ্বাস,
সারাটি জীবন মরীচিকা তার, – প্রহসনপরিহাস!
ছোঁয়াচে তাহার ম্লান হয়ে যায় শশীতারকার শিখা,
আলোকের পারে নেমে আসে হার আঁধারের যবনিকা!
সে যে মন্বন্তর, – মৃত্যুর দূত, – অপঘাত, – মহামারী, –
মানুষ তবু সে, – তার চেয়ে বড়ো, – সে যে নারী, সে যে নারী!

জীবনানন্দ দাশ

তিন পাগল


তিন পাগলের হল মেলা নদে এসে।।
ওরে মন নদে এসে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে।।
একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে দৌড়ে গিয়ে
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে ধূলার মাঝে
ওরে মন ধূলার মাঝে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে
একটা নারকোলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা করম দোষে
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি বুঝবি শেষে
ওরে মন বুঝবি শেষে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে
পাগলের নামটি এমন
বলিতে ফকির লালন হয় তরাসে
চৈতেনিতে অজয় পাগল নাম ধরে সে
ওরে মন নাম ধরে সে
তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে


ফকির লালন শাহ্‌

বাংলা বুজস্ না ?


যে অপরাধের শাস্তি দেবার কেহ নাই, সেটা পাপ হতে পারে, কিন্তু অপরাধ নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

যাহাদের নিজের উপর বিশ্বাস রহিয়াছে তাহারাই অন্যকে বিশ্বাস করে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

জনপ্রিয় ব্যক্তি হচ্ছেন সেই জন, যাকে সবাই চেনে কিন্তু তিনি কাউকে চেনেন না। এইচ এল মেনকেন।

রাজার ঘরে উত্তরাধিকারই জন্মায়, পুত্র জন্মায় না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

যদি কামড়ানোর সাহস না থাকে তবে দাত দেখিয়ো না। আরব প্রবাদ।